শপথ তীন ও যায়তূন-এর (যা জন্মে সিরিয়া ও ফিলিস্তিন এলাকায় যে স্থান বহু পুণ্যময় নবী ও রসূলের স্মৃতিতে ধন্য)।
শপথ সিনাই পর্বতের (যা নবী মূসার স্মৃতি বিজড়িত),
আর (ইবরাহীম ও ইসমাঈল কর্তৃক নির্মিত কা‘বার) এই নিরাপদ নগরীর শপথ,
আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি অতি উত্তম আকার আকৃতি দিয়ে, (এবং জ্ঞান ও যোগ্যতা দিয়ে যার সুন্দরতম নমুনা হল নবী রসূলগণ)।
আবার উল্টোদিকে তাকে করেছি হীনদের হীনমত (যেমন আল্লাহ বিদ্রোহী কাফির, অত্যাচারী রাজা-বাদশা-শাসক, খুনী, পুতুল পূজারী ইত্যাদি)।
কিন্তু তাদেরকে নয় যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে, তাদের জন্য তো আছে অফুরন্ত প্রতিদান।
(ভাল কাজের পুরস্কার দেয়া আর অন্যায় কাজের শাস্তি দেয়াই ইনসাফপূর্ণ কথা) কাজেই শেষ বিচারের দিনকে অস্বীকার করতে কিসে তোমাদেরকে উদ্বুদ্ধ করছে?
আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম (বিচারক) নন?
পাঠ কর তোমার প্রতিপালকের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন,
সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট-বাঁধা রক্তপিন্ড হতে।
পাঠ কর, আর তোমার রব বড়ই অনুগ্রহশীল।
যিনি শিক্ষা দিয়েছেন কলম দিয়ে,
শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না,
না (এমন আচরণ করা) মোটেই ঠিক নয়, মানুষ অবশ্যই সীমালঙ্ঘন করে,
কারণ, সে নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করে,
নিঃসন্দেহে (সকলকে) ফিরে যেতে হবে তোমার প্রতিপালকের দিকে।
তুমি কি তাকে (অর্থাৎ আবূ জাহলকে) দেখেছ যে নিষেধ করে,
এক বান্দাহকে [অর্থাৎ রসূলুল্লাহ (সা.)-কে] যখন সে নামায আদায় করতে থাকে?
তুমি কি ভেবে দেখেছ (যাকে নিষেধ করা হচ্ছে) সে যদি সৎ পথে থাকে,
আর তাকওয়া অবলম্বনের নির্দেশ দেয় (তাহলে তার এ কাজগুলো কেমন মনে কর?)
তোমার কী ধারণা যদি সে (অর্থাৎ নিষেধকারী ব্যক্তি) সত্যকে অস্বীকার করে আর মুখ ফিরিয়ে নেয় (তাহলে তার এ কাজ কেমন মনে কর?)
সে কি জানে না যে, আল্লাহ দেখেন?
না, (সে যা করতে চায়) তা কক্ষনো করতে পারবে না, সে যদি বিরত না হয় তাহলে আমি অবশ্যই তার মাথার সামনের চুলগুচ্ছ ধরে হেঁচড়ে নিয়ে যাব-
মিথ্যাচারী পাপাচারী চুলগুচ্ছ
কাজেই সে তার সভাষদদের ডাকুক।
আমিও ‘আযাবের ফেরেশতাদেরকে ডাকব,
না, তুমি কক্ষনো তার অনুসরণ করো না, তুমি সাজদাহ কর আর (আল্লাহর) নৈকট্য লাভ কর।[সাজদাহ]